বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:: রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে বাড়ি দখল চেষ্টা ও ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আজিজুর রহমান ভূঁইয়া ওরফে আজিম চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি পুলিশ।
বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় বসুন্ধরা এলাকার নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে গুলশান থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া আজিজুর রহমান ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার গালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি।
পুলিশ সূত্রে জানায়, গত ১৯ মার্চ ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকার সুযোগে গুলশান ১ নম্বর এলাকার ১২৭ নম্বর রোডের ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক আয়তনের ১৫ নম্বর বাড়িটি আজিজুরের লোকজন দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় দখলদাররা পিছু হটতে বাধ্য হয়ে বাড়ির মালিকের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে বলে জানা গেছে।
মামলার বিবরণ ও পুলিশের ভাষ্য মতে, বাড়িটি ২০১৩ সালের শেষদিকে আব্দুল আজিজ খান নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছিলেন মেসার্স মুন ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাবাসসুম আরেফিন রহমান। সেই বিক্রেতা আজিজ খান ২০১৫ সালে মারা যান। তবে একই এলাকার চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান নিজেকে বাড়িটির আমমোক্তার দাবি করে দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন। দখল করতে না পেরে নিজের লোক হানিফ হাওলাদারকে ভুয়া মালিক সাজিয়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করেন বলেও অভিযোগ আছে।
গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন জানান, এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান জানান, আজিজুর রহমান ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গুলশান এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। পালিয়ে থাকা অবস্থাতেও তিনি নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। নবাবগঞ্জের জনপ্রতিনিধি হলেও গুলশান ও ভাটারা এলাকায় জমি ও ডেভেলপার ব্যবসা তার এবং পরিবারের গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এদিকে তাঁর নিজ এলাকা নবাবগঞ্জের গালিমপুরেও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে। দল ক্ষমতায় থাকাকালীন স্থানীয় ইউপি সদস্যরা একাধিকবার তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার পরিবার আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত বলে জানা গেছে।
নবাবগঞ্জ থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ছাত্রজনতার উপর হামলার ঘটনায় তাঁদের থানায় দুটি মামলা রয়েছে আজিমের বিরুদ্ধে। শীঘ্রেই সে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।